সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নেই তালিকায় নাম!

60

রয়েল নিউজ , মাদারীপুর প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার পর মে মাসে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আগরতলায় গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। তিনি সহ সেই দলে অনেক সদস্য ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে শিবচরে এসে একটিতে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। তারপরে যুদ্ধ শেষে ঢাকায় অস্ত্রও জমা দিয়ে দেন।

এমনই দাবি মাদারীপুর শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল রশিদ খান এর। আবদুল রশিদ খান ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আগরতলা হাঁপানিয়া লেবুতলা জিমনেশিয়ামে ডামি রাইফেল নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

আবদুল রশিদ খান বলেন, যখন এদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন, তখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী দেওয়া হবে। তখন অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা কার্ড করেছেন আর তালিকায় নাম দিয়েছেন। যখন আমি এই বিষয়ে জানতে পেরেছি মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তখন আমি হওয়ার জন্য যারা যারা আমার সাথে যুদ্ধ করেছিলো আমি তাদের কাছে গিয়ে বলি তখন তারা আমাকে আবেদন করতে বলে।

তখন সাত জন মুক্তিযোদ্ধাকে সাক্ষী রেখে আবেদন করি। কর্তৃপক্ষ আমার কাছে জানতে চাইলো ভারতের কোন কাগজপত্র আছে কি না? আমি বললাম না। কিন্তু বললাম যারা আমার যুদ্ধ করেছে তারাই তো আমার জন্য সুপারিশ করেছে। তারপরে আমি কোথার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি আর কোথায় যুদ্ধে যোগদান করেছি তা বলার পরে বলেছে ঠিক আছে।

কেন সব কিছু ঠিক থাকার পরে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হতে পারি নাই! এটা জননেত্রী শেখ হাসিনা মা জননীর কাছে আমার প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:ফোন করলেই বিনামূল্যে পৌঁছে যাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার

তিনি আরও বলেন, এদেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি আর এ যদি হয় সত্যিকারের দেশ প্রেমিকের এই অবস্থা। তাহলে যুদ্ধ করে কি পেলাম। অবশেষে আমি ঢাকায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আপিল দায়ের করি যাহার নং ৩৮১। ঢাকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অধিবেশনে আবেদন করার পরেও কোন সুরাহা মেলেনি।

আক্ষেপ করে রশিদ খান বলছিলেন, তাদের গ্রামে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের কমবেশি সবাইকে তিনি চিনেন। অথচ তাদের গ্রাম থেকে যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অনেকেই।

রয়েল টিভি/ এস সি / ১১ জুলাই, ২০২১

Previous articleবিধবার ঘর পোড়ানো মামলার সাক্ষী ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায় !
Next articleকরোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুর মিছিলে ২৩০ জন