বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন সব সময় বঙ্গমাতা: প্রধানমন্ত্রী

85
রয়েল নিউজ:
বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সাহস দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে তাঁর ছিলো অনন্য ভূমিকা। বঙ্গমাতার জন্মদিনের আয়োজনে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনবিার (৮ আগস্ট) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার। এরপর বঙ্গমাতার কর্মময় জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।

বঙ্গমাতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। বঙ্গমাতা অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস, মনোবল, সর্বসংহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি। তিনি কখনো সাহস হারাননি। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

মায়ের স্মৃতিচারণ করে কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৮ সালে মার্শল ল’ জারি হওয়ার পর আব্বা আলফা ইন্সুরেন্সে চাকরি করতেন। এই দু’বছর আমার মা সংসারের স্বাদ পেয়েছিলেন। কারণ তখন রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হওয়া স্বত্ত্বেও আমার মায়ের কোনো অহমিকা ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দলকে সুসংগঠিত করতে সবসময় পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এর আগে, বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জের একশো জন অস্বচ্ছল মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন ও একশো জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ উপহার দেয়া হয়।

এদিকে, শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন যুব লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এরপর দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসময় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

১৯৩০ সালের ৮ই আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা, যিনি পরিবারে পরিচিত ছিলেন রেণু নামে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে শেখ মুজিবের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। শুধু সহধর্মিনী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আজীবন প্রিয়তম স্বামী শেখ মুজিবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুর সপরিবার হত্যাযজ্ঞে তিনিও শহীদ হন।