ডিমলায় এক নারীকে শ্লিলতাহানীর মামলায় স্বাস্থ্য কর্মী কারাগারে

186

রয়েল নিউজ, নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় এক নারীকে মারপিট, বিবস্ত্র করে শ্লিলতাহানীর চেষ্টা ও শ্বসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা মামলায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী মহব্বত হোসেন মো: বারী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশে দেন। ওই মামলায় গত সোমবার ডিমলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মেহেদী হাসান জামিন না মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। তার হাজতি নম্বর ১৭৯৫/২০।

মামলার বিবরনে জানা গেছে, সমবায় বিভাগ থেকে নিবন্ধন নেয়া ডিমলা স্বপ্ন সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি: এর সহ-সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন মহব্বত হোসেন মো: বারী। পাশাপাশি তিনি নাউতারা আকাশকুড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার পদেও কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের ৮ফেব্রুয়ারী সমিতির অফিসে এসে ২জন কর্মচারীকে লাঞ্চিত, সাইনবোর্ড ও আসবাবপত্র ভাংচুর এবং তাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দেয়। তার এ সমিতি বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান মামুনকেও তিনি লাঞ্চিত করেন।

সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান মামুন গত ১৪মার্চ সকাল ৯টার দিকে সমিতির নির্বাহী সদস্য মায়া আক্তারের খোজ নেয়ার জন্য ডিমলা মেডিকেল মোড়ে পৌছলে মহব্বত হোসেন মো: বারীর হুকুমে একদল উশৃঙ্খল লোক পরিকল্পিতভাবে মায়া আক্তারের মাথায় কোপ মারে। এক পর্যায়ে তাকে বাঁচাতে সমিতির সভাপতির গর্ভবতী স্ত্রী আরজু হুমায়রা তনু, আবুল কাশেম কালু ও জামরুল হোসেন এগিয়ে এলে তারা তাদেরকে বেধরক মারপিট করে।

এ ব্যাপারে মায়া আক্তার গত ১৮মার্চ বাদি হয়ে মহব্বত হোসেন মো: বারী, সোহেল রানা মাসুদসহ ৬জনের নামে ডিমলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিঞ্জ বিচারক মামলা তদন্তের জন্য ডিমলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দেয়ার আদেশ দেন। চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৯এপ্রিল বিঞ্জ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
গত সোমবার ডিমলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শুনানী শেষে বিঞ্জ বিচারক মেহেদী হাসান ৫জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে মহব্বত হোসেন মো: বারীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদি পক্ষে ছিলেন আইনজীবি জামিল আহমেদ ও অসিত কুমার ধর। আসামী পক্ষে ছিলেন আইনজীবি আবু মোহাম্মদ সোয়েম ও আসাদুজ্জামান খান রিনো।