সীমান্ত নিয়ে কিছু কথা-রেজওয়ানুল আজাদ নিপুন

89
রেজওয়ানুল আজাদ নিপুন

রয়েল নিউজঃ

পাঠকের কলামে সীমান্ত নিয়ে কিছু কথা ও কিছু কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন-রেজওয়ানুল আজাদ নিপুন।

সীমান্ত এলাকার মানুষ আমি ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিয়ে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন এর চেকিং পেরিয়ে ভারত যাওয়ার অভ্যাস রপ্ত করতে অনেক সময় লেগেছে আমার।নৌকায় অথবা হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে সাহেবখালী,হিঙ্গলগঞ্জ বা টাকিতে যাত্রা দেখার কৈশোর যৌবন এর স্মৃতি এতটাই বেশি,স্থল বন্দর অহেতুক ঝামেলা মনে হয় আজো। রাজনৈতিক কারণে সীমান্তের কালোবাজারিদের সাথে কথা হয়ই।সীমান্তের ফেন্সিডিল ফ্যাক্টরিগুলো মূলত বাংলাদেশের জন্যই তৈরি এটা প্রমাণিত।

অন্তত কয়েক হাজার পরিবার এর কথা জানি যে পরিবারের মহিলারা জিরা,শাড়ি,ব্লাউজ পিস বা আমুল স্প্রে এর পাশাপাশি মাদক নিয়ে আসে সীমান্ত পেরিয়ে। অনেক মেয়েদের চিনি যারা মুম্বাই এ বার ড্যান্সার বা পার্লার এ কাজ করে। এই সেদিন পর্যন্ত ভারত থেকে আনা চোরাই মোটর সাইকেল চালিয়েছি নিজেও। চিকিৎসার জন্য আর এন ঠাকুর,পিয়ারলেস বা নীল রতন সরকার হাসপাতালে যায়নি সীমান্তের এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুস্কর,অধিকাংশ পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্ত পার হয়ে। এখন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যদি অনুপ্রবেশ কালে আমাকে গুলি করে সেটা কি সীমান্ত সন্ত্রাস হবে?

বারাসাত থেকে দমদম পর্যন্ত রেল লাইন এর দুই পাশের বসতি এপার থেকে যাওয়া মানুষদের। চব্বিশ পরগনা জেলার সেই ক্যানিং থেকে উত্তরে মুর্শিদাবাদ,সীমান্তের অধিকাংশ পঞ্চায়েত,রাজ্যসভা,লোকসভার প্রতিনিধি মুসলিম। কলকাতা নিউমার্কেট আর বড় বাজারে মুসলিম বণিকদের আধিপত্য।অর্থনৈতিকভাবে সীমান্তের মুসলিম জনগোষ্ঠী খুব বেশি ভালো অবস্থানে,যেখানে তাদের আধিপত্যের বিরোধিতা নেই। শাহজাদা আদ্দি কাপড়ের মিহি পাঞ্জাবী আর আঙ্গুরা সোয়েটারের সাথে কাশ্মীরী শাল না পরলে এপারের অনেক নেতার ভারত বিরোধী বক্তব্যে জোর হয় না। ঈদ বা কোন উপলক্ষে ভারতের শাড়ী, ত্রিপিস ছাড়া স্ত্রী সন্তানের উৎসব পূর্ণতা পায় না। রেমণ্ডের ব্লেজার বা অরভিন্দের প্যান্ট শার্ট পিস পরে কেতাদুরস্ত হয়ে অফিসে না গেলে ফেসবুক এর ভারত বিরোধী স্ট্যাটাস জমেই না।

ভারতের বিরোধিতা করতে করতে আমরা এতটাই ভারত বিরোধী মানসিকতা লালন করি যে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করতে পারি না। শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলগত পরিকল্পনা করে ভারত নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় পণ্য এড়িয়ে চলার সেই মানসিকতা এখনো গড়ে উঠেনি আমাদের,উত্তর আসে টাকা দিয়ে কিনি। টাকা দিয়ে কিনি বলেই বেনিয়াদের মতো ভারত চেপে বসে আমাদের উপর। আসুন আমরা ভারত বিরোধি মানসিকতার কিছুটা পরিবর্তন করে ভারত নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় পণ্য এড়িয়ে চলি,বিকল্প উৎস সৃষ্টি করি।

Previous articleবিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাসপাতালে ভর্তি
Next articleঢাকা সহ কেঁপে উঠল দেশ