নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ১০ লাখ মানুষের ভোগান্তি।

156

রয়েল নিউজ, নীলফামারী প্রতিনিধি :
১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালটি চলতি বছরের ৩০শে জানুয়ারী ২৫০শয্যায় উন্নীত করে জেনারেল হাসপাতালে রুপান্তর করা হয়ছে। পুরাতন ভবনে ১০০ শয্যা আর নতুন ৮তলা একটি ভবনে ১৫০শয্যা হওয়ার কথা থাকলেও তা নির্মিত হয়েছে মাত্র ৬তলা পর্যন্ত। অনির্মিত ২টি তলায় ২০টি কেবিন আর ৬০টি বেড থাকার কথা ছিল। কিন্তু ওই ২টি তলা তৈরী না হওয়ায় শয্যা সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ১৭০টিতে।

এ ছাড়াও ৫৭জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন ১৭জন। শিশু, চর্ম, যৌন, অর্থোপেডিক্স ও প্যাথলজি বিভাগে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ৬০জন সেবিকার পদ খালিই পড়ে আছে। তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য ৬১টি পদ থাকলেও পদায়ন হয়নি ৪৪টি পদের। প্যাথলজি বিভাগে কোন চিকিৎসক না থাকায় বিভিন্ন রোগ পরীক্ষা নিরিক্ষায় একমাত্র ভরসা ১জন ল্যাব ট্যাকনিশিয়ানের উপর। ষ্টোর রুম না থাকায় ঔষধসহ নানা জিনিসপত্র থাকছে অরক্ষিত এবং অবহেলায়। এরকম নানান সংকটে জর্জরিত নীলফামারীর এই স্বাস্থ্যখাতটি।

আবাসিক চিকিৎসক আর আবাসিক সার্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ২টি পদ থাকলেও ১টিতেও জনবল নেই। রেজিস্টার, সহকারি রেজিস্টার ও সহকারি সার্জনের ১৭টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ফলে জরুরী বিভাগ, বহিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসারা।

করোনাকালে স্বল্প সংখ্যক নার্স দিয়ে দায়িত্ব পালন করা দুরহ হয়ে পড়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের কোনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানালেন নার্সিং কর্মকর্তা কল্পনা রানী দাস।
অন্ত:বিভাগ আর বহি:বিভাগে যে পরিমান রোগী আসে চিকিৎসক সংকটের কারনে তাদেরকে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাদেরকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেয়া সম্ভব হয়না বলে জানালেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট, ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮তলা বিশিষ্ট ফাউন্ডেশন দিয়ে অর্থ বরাদ্দ অনুযায়ী ৬তলা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশনা আর অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ৮ম তলা নির্মাণ করা হবে বলে জানালেন প্রকৌশলী মো: তৌহিদুজ্জামান

Previous articleসীমান্তে থামছেনা অবৈধ অনুপ্রবেশ!
Next articleসভাপতির পদত্যাগের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান